Breaking News
recent

ঘাড়ের সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস কি? How to treat cervical spondylosis

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস কী..?

সাধারণ বাংলায় এটাকে বলে ঘাড়ের বাত। এটা হলো মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশের কশেরুকাগুলোর মধ্যকার ডিস্ক বা চাকতিসদৃশ তরুণাস্থির ক্ষয়প্রাপ্তি। মানুষের মেরুদণ্ড ৩৩টি ছোট ছোট হাড় বা কশেরুকা (ভার্টি ব্রা) দিয়ে তৈরি। ঘাড়ের অংশে থাকে সাতটি কশেরুকা। এই কশেরুকাগুলো একটি অপরটির সাথে ডিস্ক ও লিগামেন্ট দ্ব্বারা সংযুক্ত থাকে। মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশ সামনের দিকে উত্তলভাবে বাঁকানো। সবচেয়ে বেশি বাঁকানো থাকে পঞ্চ ও ষষ্ঠ কশেরুকার মধ্যকার ডিস্ক বরাবর। এই ডিস্কে স্পনডাইলোসিস বেশি ঘটে কারণ এই পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে।

ক্ষয়প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় ডিস্ক তার পানি হারিয়ে ফেলে এবং শুষ্ক হয়ে ওঠে। সুস্থ অবস্থায় ডিস্কগুলো নরম, স্থিতিস্থাপক এবং বেশি মজবুত। ডিস্কে যখন ক্ষয় শুরু হয় তখন তার নমনীয় তন্তুগুলো শক্ত হয়ে ওঠে এবং চাপের ফলে ভেঙ্গে যায়। দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক ক্ষয়ে যায় এবং পাতলা হয়ে যায়। এর ফলে কশেরুকাগুলোর প্রান্তগুলো পরস্পরের সাথে ঘষা খেতে থাকে এবং বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের দানা দেখা দেয়।

এই হাড়ের দানাগুলো সূচালো ও ধারালো। এক্সরে পরীক্ষায় এগুলো ধরা পড়ে। যদি এই হাড়ের দানাগুলোর কোনোটি স্নায়ুমূলকে খোঁচা মারে তাহলে হাতে তীব্র ব্যথার উদ্রেক হয়। হাড়ের দানাগুলো মাঝে মাঝে স্নাযুরজ্জুকেও চাপ দিতে পারে এবং পায়ে অসাড়তা ঘটাতে পারে।

ক্ষয়প্রাপ্ত ডিস্ক তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে, সেটাকে বলে ‘স্লিপড ডিস্ক’। সেক্ষেত্রে ডিস্ক স্নায়ুমূলের ওপর চাপ দিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করে। স্লিপড ডিস্ক সাধারণত হয় দুর্ঘটনা, হঠাত্ পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড়ে আঘাতের কারণে। যা হোক, ডিস্কের স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে গেলে ক্ষয়প্রাপ্ত মেরুদণ্ডের নড়াচড়া সহজ হয় না।

স্পনডাইলোসিস সাধারণত ঘটে থাকে ঘাড়ের নিচের চারটি কশেরুকাতে অর্থাত্ চতুর্থ থেকে সপ্তম কশেরুকাতে। ওপরের তিনটি কশেরুকাতে স্পনডাইলোসিস খুব কম হয় কারণ ওখানটায় খুব একটা চাপ পড়ে না। সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ব্যথা সর্বদা ঘাড়ের পেছন দিকে অনুভূত হয়, কখনোই ঘাড়ের সামনের দিকে অনুভূত হবে না। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধে এবং বাহুর পেছনের দিকে কনুই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো কখনো ব্যথা হাতে এবং আঙুলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।


স্পনডাইলোসিস রোগ নির্ণয়:

স্পনডাইলোসিস হয়েছি কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এক্সরে পরীক্ষা করা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান অথবা এমআরআই (MRI) করা হয়ে থাকে।

সার্ভাক্যাল স্পনডাইলোসিসে স্নায়ুমূল আক্রান্ত হলে কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায়-

ব্যথা
অসাড়তা
শক্ত হওয়া।
যদি ডিস্ক সরে যায় এবং স্নাযুরজ্জুর ওপর চাপ পড়ে তাহলে হাত অবশ হয়ে যেতে পারে। নতুন হাড় গজানোর জন্যও স্নায়ুরজ্জুতে চাপ পড়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

স্পনডাইলোসিস চিকিত্সা পদ্ধতি:

সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের কারণে ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হলে সাধারণত নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়-

১. ঘাড়ের নড়াচড়া বন্ধ রাখা।

২. ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা।

৩. গরম সেক দেয়া।

৪. ট্রাকশন।

৫. মালিশ বা ম্যাসাজ করা।

৬. ঘাড়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করে তোলে।

৭. শক্ত পেশি শিথিল করতে ব্যায়াম।

Tags: ঘাড়ের ব্যাথা,কিভাবে ঘাড়ের ব্যাথা দূর করা যায়,Gharer betha,Gola betha,Neck pain,swollen neck.

No comments:

Post a Comment

Labels

BDNews (175) Download (2) Funny (61) Life-Style (37) Stories (15) Tips (154) Videos (30)
Powered by Blogger.